চিকিৎসক সংকট; একজনেই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৭-০৮-২০২৬ ০৫:০৬:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৮-২০২৬ ০৫:০৬:৪৯ অপরাহ্ন
১৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। চিকিৎসকের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীরও রয়েছে ব্যাপক সংকট। ৫৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৮ জন স্বাস্থ্য সহকারী কর্মরত রয়েছেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ১৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোসহ রোগীদের চিকিৎসাসেবাও দিচ্ছেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী।
সদর উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই কার্যালয়ের ওপর। চিকিৎসকের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীরও রয়েছে ব্যাপক সংকট। ৫৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৮ জন স্বাস্থ্য সহকারী কর্মরত রয়েছেন। এত কম জনবল দিয়ে পুরো উপজেলার মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জনবল সংকটের মধ্যেও ডা. প্রদীপ কুমার বকসী নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিদিন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ে প্রায় ২৫-৩০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রোগীদের কথা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, চিকিৎসা ও ওষুধের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও ডা. প্রদীপ কুমার বকসীর আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ রোগীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ তার কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।
ডা. প্রদীপ কুমার বকসী বলেন, ‘বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসে ১৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে একমাত্র আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। চিকিৎসকের এই তীব্র সংকটের কারণে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি রোগীসেবা, উপজেলা মাসিক সভা, অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করতে গিয়ে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে ৫৫ জন স্বাস্থ্য সহকারীর বিপরীতে মাত্র ৮ জন কর্মরত রয়েছেন। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে পুরো উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।’
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স মো. মাহবুবুল আলম বলেন,‘জনবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও মাঠকর্মী পদায়নের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান হবে। সদর উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স